• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩০ অপরাহ্ন |

নীলফামারীতে মানবতার হোটেলে বিনামূল্যে মিলছে খাবার

সিসি নিউজ।। নীলফামারী জেলা শহরের পিটিআই মোড়ে কিছু সংখ্যক ছিন্নমূল মানুষ রাস্তার পাশে বসেই খাচ্ছে খাবার। চারপাশে ব্যানারে লেখা ‘মানবতার হোটেল’। এ হোটেলে খেতে লাগেনা কোন টাকা। আছে বসে খাওয়ার সুন্দর ব্যবস্থা। রয়েছে ঝকঝকে প্লেট, হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা, খাবারের হাঁড়ি আর পানির ড্রাম। এর সামনে হোটেলে আসা ছিন্নমূল মানুষদের খাওয়াতে ব্যস্ত এক ঝাঁক তরুণ স্বেচ্ছাসেবী দল। আজ সোমবার দুপুরে শহরের পিটিআই মোড়ের এ দৃশ্য।

তরুনদের মাঝে ’মানবতার হোটেল’ এর সহকারী পরিচালক আবু তালেবের সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, এখানে শুধুমাত্র ছিন্নমূল অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের নাম, বয়স ও পেশার বিবরণ লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, এখানে খেতে আসা ছিন্নমূল মানুষদের মধ্যে অধিকাংশই বৃদ্ধ ও মধ্যবয়সী।

মানবতার হোটেলের পাশে চা দোকানদার জামাল উদ্দিন বলেন, ছোট এই দোকানে সারা দিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বিক্রি হয়। দুপুরে বাসায় খাইতে গিয়ে দোকান বন্ধ রাখতে হয়। আশপাশে খাবার হোটেল নেই, যেখানে কম টাকায় খাবো। আজ দোকান বন্ধ না রেখেই এখানে বিনা টাকায় খাবার খেয়েছি। হোটেল সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত এ ব্যবস্থা করার আবেদন জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘মানবতার হোটেল’ মূলত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ’পোভার্টি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন’র প্রজেক্ট। সংগঠনটির বেশ কিছু সদস্য রয়েছে। তারা এলিভেন মেম্বার নামে একটি টিম গঠনের মাধ্যমে প্রতিদিন ১১ টাকা হারে সঞ্চয় করে থাকে। এরপর কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেওয়া অর্থ সংযুক্ত করে ২০১৮ সাল থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে ছিন্নমূল মানুষদের খাবার খাওয়ানোর কাজটি করছেন তারা।

নীলফামারী পিটিআই মোড়ের মানবতার হোটেলের সদস্য জিয়ারুল ইসলাম (জিয়া) জানান, তিনি ভালো লাগার জায়গা থেকেই নিজেকে এ কাজের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। মানুষকে খাওয়াতে পেরেই তার আনন্দ। এমন ভালো কাজের সঙ্গে থাকতে পারে নিজেকে গর্বিত মনে করেন তিনি।

মানবতার হোটেলটির পরিচালক তুহিন ইসলাম বলেন, ছিন্নমূলের পাশাপাশি রিকশাচালক, ফেরিওয়ালা এমনকি পথচারীরাও এখান থেকে বিনা টাকায় খাবার দেওয়া হয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টার মধ্যে দুইশত জনের বেশি মানুষ খাবার খেয়েছে।

তিনি জানান, এবারে নীলফামারী জেলা শহরের পিটিআই মোড়ে প্রথম চালু হয় ‘মানবতার হোটেল’। তাদের অর্থ সংকটের কারণে এখানে সপ্তাহে একদিন খাওয়ানো সিদ্ধান্ত নেন তারা। পরবর্তী সময়ে সকলের সহযোগিতা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে প্রতিদিন খাওয়ানোর কার্যক্রম শুরু করবেন। হোটেলে খাবারের মধ্যে থাকে খিচুড়ি, ডিম, সবজি কিংবা মাংস, ডাল, সাদা ভাত।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ